নবম -দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় – ৫:বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু | সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি

নবম -দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় – ৫:বাংলাদেশেরভূপ্রকৃতি ওজলবায়ু

এই নোট টির ডাউনলোড লিংক পোস্টের নিচে পাবেন

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি

বাংলাদেশ পলল গঠিত একটি আর্দ্র অঞ্চল। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ- পূর্বের সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর- পশ্চিমাংশের সীমিত উঁচুভূমি ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি বড় নদী গংগা, ব্রক্ষ্মপুত্র এবং মেঘনার অববাহিকায় বাংলাদেশ অবস্থিত। এ দেশের ভূ-প্রকৃতি নিচু ও সমতল।

বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণ উচ্চভূমি রয়েছে। ভুপ্রকৃত্র ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ, সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।

বাংলাদেশ পলল গঠিত একটি আর্দ্র অঞ্চল। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ- পূর্বের সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর- পশ্চিমাংশের সীমিত উঁচুভূমি ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি বড় নদী গংগা, ব্রক্ষ্মপুত্র এবং মেঘনার অববাহিকায় বাংলাদেশ অবস্থিত। এ দেশের ভূ-প্রকৃতি নিচু ও সমতল।

বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণ উচ্চভূমি রয়েছে। ভুপ্রকৃত্র ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ, সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।

বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

জলবায়ু বলতে একটি বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী আবহাওয়ার উপাদানগুলোর দৈনন্দিন অবস্থার দীর্ঘ দিনের গড় অবস্থাকে বুঝায়। মানুষের জীবনে জলবায়ুর প্রভাব বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমি জলবায়ুর কারণে এদেশে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর কিছু তারতম্য ঘটে। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে অতিবৃষ্টই, অকালে বন্যা ইত্যাদি দেখা যায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দেখা যায় নানা দূর্যোগ।

জলবায়ু বলতে একটি বৃহৎ অঞ্চলব্যাপী আবহাওয়ার উপাদানগুলোর দৈনন্দিন অবস্থার দীর্ঘ দিনের গড় অবস্থাকে বুঝায়। মানুষের জীবনে জলবায়ুর প্রভাব বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমি জলবায়ুর কারণে এদেশে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর কিছু তারতম্য ঘটে। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে অতিবৃষ্টই, অকালে বন্যা ইত্যাদি দেখা যায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দেখা যায় নানা দূর্যোগ।

বর্ষাকাল

বাংলাদেশে বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ ঋতুতে পর্বতের পাদদেশে  এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে  কোথাও ২০০ সে.মি. এর কম বৃষ্টিপাত হয় না।পাহাড়িয়া অঞ্চলে  ৩৪০  সে.মি. পটুয়াখালীতে ২০০ সে.মি. চট্টগ্রামে ২৫০ সে.মি. রাঙামাটি অঞ্চলে ২৮০ সে.মি. এবং কক্সবাজারে ৩২০ সে.মি. বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

জনসংখ্যা

জনসংখ্যার দিক  থেকে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান নবম। ভূখন্ডের তুলনায় এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশি । তাছাড়া  জনসংখ্যা  বৃদ্ধির হারও  বেশ।  ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২৯৩  কোটি জনসংখ্যা  বৃদ্ধির হার ১.৪৮%  এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮৭৬ জন। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৪.৯৭ কোটি এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১০১৫ জন ।

নেপাল

নেপালের জলবায়ুতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য বিবেচনায় দুটি ঋতু পরিলক্ষিত হয়। তার কারণ জুন হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকে এবং এজন্য এ সময়কালকে বর্ষাকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জুলাই মাসের কাঠমুন্ডুর তাপমাত্রা থাকে ২৪.৪ ডিগ্রি সে.। অন্যদিকে নেপালে নভেম্বর হতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত  সময় অত্যন্ত শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে ।  এসময়ে  তাপমাত্রা বেশ কম থাকে বলে একে শীতকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  জানুয়ারিতে কাঠমুন্ডুর তাপমাত্রা থাকে পায় ১০ডিগ্রি সে.। উঁচু পার্বত্য এলাকা হওয়ায় নেপালের কোনো  অংশের তাপমাত্রা অতিরিক্ত  বৃদ্ধি পায় না এবং শীত গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্যও খুব বেশি হয় না।  নেপালের বার্ষিক গড় পৃষ্টিপাত ১৪৫ সে.মি. যার প্রায় পুরোটাই সংঘটিত হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে।

গ্রীষ্মকাল

বাংলাদেশের উষ্ণতম ঋতু  গ্রীষ্মকাল। মার্চ হতে মে মাস পর্যন্ত  বাংলাদেশে  গ্রীষ্মকাল । এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি  সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত  হয়ে থাকে । গড়  হিসেবে উষ্ণতম মাস এপ্রিল। এ সময়  সামুদ্রিক বায়ুর  প্রভাবে  দেশের দক্ষিণ হতে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে । যেমন- এপ্রিল মাসের গড় তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৭.৬৪ ডিগ্রি সে. নারায়ণগঞ্জে ২৮.৬৬ ডিগ্রি সে. এবং রাজশাহীতে প্রায় ৩০ ডিগ্রি সে. থাকে । গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কট ক্রান্তি রেখার নিকটবতী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে । একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এ ঝড়কে কাল বৈশাখী বলা হয়। এছাড়া এপ্রিল ও মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ সমূহের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায়শ বিভিন্ন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত  হয় । ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশ উপকূলে বিশেষত চট্টগ্রাম উপকূলে ব্যাপক সম্পদ ও জীবনহানি ঘটে।

ভূমিকম্প

বাংলাদেশের বড় ভূমিকম্পের বিপর্যয় মোকাবিলার ন্যূনতম প্রস্তুতি নেই। নাজুক তৎপরতার কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেই ঢাকায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। অসহায়ভাবে মৃত্যুর শিকার হতে পারে লাখ লাখ মানুষ। আমরা একটু গুরুত্বের সাথে লক্ষ করলে দেখতে পাব যে, আমাদের দেশে যদি ৩০ থেকে ৩৫ সেকেন্ডের কোণে ভূমিকম্প হয় এবং ভূমিকম্পের যে প্রানহাণী ঘটবে তার চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটবে উদ্ধার কাজের ব্যর্থতার জন্য।

ভূমিকম্প

বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প বলয়ে অবস্থিত। বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়ে থাকে টেকনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে। ভূস্তরের ভূমিকম্প প্রবণ ইণ্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার সাব-প্লেটের মাঝখানে বাংলাদেশ অবস্থিত। ভূতাত্তিকদের মতে আসাম থেকে শুরু করে ঢাকার পাগলা পর্যন্ত রয়েছে লিনিয়ামোট। এই লিনিয়ামোট পূর্ব পশ্চিমে আসাম ভাউকি ডেঞ্জার ফল্টের সাথে যুক্ত। এই ডেঞ্জার ফল্ট লাইনে অবস্থান করছে বাংলাদেশের সিলেট জেলা।

মোদক্মুয়াল

রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারও চট্টগ্রাম  জেলার পূর্বাংশ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার । বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার । একটি বান্দবান জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ  হচ্ছে কিওক্রাডং যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার । এছাড়াও অঞ্চলের আরও দুটি উচ্চতর পাহাড় চূড়া হচ্ছে মোদকমুয়াল (১০০০ মিটার) এবং পিরামিড (৯১৫ মিটার)। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাহাড় কর্দম ও  শেল পাথর দ্বারা গঠিত।

্ভারত

 জুন হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত  ভারতে বর্ষাকাল থাকে। জুন মাসের শেষে (২১জুন) সূর্য কর্কটকান্তি রেখার উপর অবস্থান করায় উত্তর ভারতের উত্তাপের পরিমাণ অত্যন্ত  বৃদ্ধি পায় ।  দক্ষিণে ক্রমশ তাপমাত্রা  কমতে কমতে শেষপর্যন্ত ২৭ ডিগ্রি সে. এর নিচে নেমে যায়।  অতিরিক্ত তাপে উত্তর ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে একটি প্রবল শক্তি সম্পন্ন নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়।  এসময় দক্ষিণ গোলার্ধে বকরীয় উচ্চচাপবলয় হতে দক্ষিণ, পূর্ব আয়ন বায়ু  নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে প্রবেশ না করে পাঞ্জাবের অধিক শক্তিসম্পন্ন নিম্নচাপের টানে সরাসরি পাঞ্জাবের দিকে অগ্রসর হয়। এ বায় সমুদ্রের উত্তর দিয়ে দীর্ঘ অতিক্রম করে বলে প্রচুর জলীয় বাস্প থাকে। হিমালয় ও অন্যান্য উচ্চ পর্বত গাত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় । ফলে ভারতে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫% বৃষ্টিপাত এ ঋতুতে হয়ে থাকে।

ভারত

 অক্টোবর – নভেম্বর দুই মাস ভারতে শরৎ  ও হেমন্তকাল । এ সময় দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দিক পরিবর্তন করে উত্তর – পূর্ব মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হতে থাকে বলে ভারতের  কোনো  কোনো  স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত হয়। এসময় পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উড়িষ্যা ও মেদিনীপুর উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিমবঙ্গে এ ঝড়কে আশ্বিনা ঝড় বলে।  হেমন্তকালের শেষদিকে ভারতের সর্বত্র তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে ।

আরো পড়ুন:  এস.এস.সি বাংলা ১ম পত্র অধ্যায় - ৯: গদ্য - উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন এর সকল তথ্য ও MCQ প্রশ্নোত্তর PDF ডাউনলোড করুন

সমভূমি

বাংলাদেশের প্রায় ৮০% নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। সমতল ভূমির নিচ দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। দেশের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ জুড়ে এ সমভূমি বিস্তৃত। হিমালয় পর্বত থেকে আনীত পলল দ্বারাই এ অঞ্চল গঠিত। ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে এ অঞ্চল বিস্তৃত।সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এবং কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার পূর্বদিকে সামান্য অংশ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিকাংশ এবং লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও হবিগঞ্জ জেলার কিছু অংশ জুড়ে এ সমভূমি বিস্তৃত। ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি গঠিত। নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি। খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি গঠিত। বাংলাদেশের এ অঞ্চলগুলোর মাটি খুব উর্বর বলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

ভূমিকম্পের ফলাফল

ভূমিকম্পের ফলে অসংখ্য চ্যুতি ও ফাটলের সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের ফলে কখনো সমুদ্রতলের অনেক স্থান উপরে ভেসে উঠে। আবার কখনো স্থল্ভাগের অনেক স্থান সমুদ্রতলে ডুবে যায়। অনেক সময় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত বা বন্ধ হয়ে যায়। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে পর্বতগাত্র হতে বৃহৎ বরফখণ্ড হঠাৎ নিচে পতিত হয় এবং পর্বতের পাদদেশে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। ভূমিকম্পের ধাক্কায় সমুদ্রের পানি তীর থেকে নিচে নেমে যায় এবং পরক্ষণেই ভীষণ গর্জন সহকারে ১৫-২০ মিটার উঁচু হয়ে ঢেউয়ের আকারে উপকূলে এসে আছড়ে পড়ে। এ ধরণের জলোচ্ছ্বাসকে সুনামি বলে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভুকম্পনের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভারত প্রভৃতি দেশে ব্যাপক জান মালের ক্ষতি হয়। ভূমিকম্পের ফলে কখনো উচ্চভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হয়।

্কারণ

বিজ্ঞানীদের মতে পর্বত্মালার ভিত্তিশিলার চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকস্মিক ভূ-আলোড়ণ হলে ভূমিকম্প হয় – এ কথা সত্য। কিন্তু বিজ্ঞানীগণ এটি ছাড়াও আরো বেশ কিছু কারণের ক্থা উল্লেখ করেছেন। যামন আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচন্ড শক্তিতে ভূ-অভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আশার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।এছাড়া পাশাপাশি অবস্থানরত দুটী প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা আনুভূমিকভাবে আগেপিছে সরে যায়। এ ধরণের সংগতিপূর্ণ পরিবেশে ভূমিকম্প সংগঠিত হয়। তাছাড়া বিজ্ঞানীগণ আরো বলেন, প্লেটসমূহের সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকে যে ফাটলের সৃষ্টি হয় তা ভূমিকম্পন ঘটিয়ে থাকে।

লালমাই

কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই পাহাড়ের উচ্চতা ২১ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রঙ লালচে এবং মাটি নুড়ি বালি এবং কংকর মিশ্রিত।

শীতকাল

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতকাল। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকায় বাংলাদেশে  এর রশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়। শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমাণ যথাক্রমে ২৯ ও ১১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। জানুয়ারি মাস বাংলাদেশের শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ সময়ে দক্ষিণে সমুদ্র উপকূল হতে উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কম হয়ে থাকে। সমতাপ রেখাগুলো অনেকটা সোজা হয়ে পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থান করে। জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা চট্টগ্রামে প্রায় ২০ ডিগ্রী, নোয়াখালিতে ১৯.৪, ঢাকায় ১৮.৩, বগুড়ায় ১৭.৭ এবং দিনাজপুরে ১৬.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

বাঙ্গালদেশে কারণ

ভৌগোলিক অবস্থাগত কারণে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান ও ইউরোপিয়ান প্লেটের সীমানার কাছে অবস্থিত। এ কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল। ভূমিরূপ ও ভূ-অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত কারণে বাংলাদেশে ভূ-আলোড়নজনিত শক্তি কার্যকর এবং এর ফলে এখানে ভূমিকম্প হয়।

 মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণে দেশের কিছু অংশ ডেবে যাচ্ছে আবার কিছু অংশ উঠে যাচ্ছে। এভাবে ভু-স্থিতির ফলে ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে। পাহাড়িয়া অঞ্চলে ভূমিকম্পের কারণে ফাটলের সৃষ্টি হয়, সেই ফাটল থেকে আবার ফাটল বৃদ্ধি পেলে ভূমিকম্প হয়। ভূমিরূপজনিত কারণে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা দেখা দেয়। পাহাড়কাটাসহ মানবসৃষ্ট কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

টারশিয়ারি

বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত থেকে উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় গঠিত হয়েছে। এ অঞ্চলের পাহারগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহঃ রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১২৩১ মিটার। এটি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কিওক্রাডং, যার উচ্চতা ১২৩০ মিটার। এ ছাড়া এ অঞ্চলের আরও দুইটি উচ্চতর পাহাড় হচ্ছে মোদকমুয়াল (১০০০ মিটার) এবং পিরামিড (৯১৫ মিটার)। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহঃ ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভিবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চলে গঠিত। পাহাড়গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়। উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান।

প্লাইস্টোসিন

বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। এ সময়ের আন্তঃবরফগলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্ত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকী তিন ভাগে ভাগ করা যায়- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবন লালমাই পাহাড়। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপানভূমি গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার। মাটির রঙ লালচে এবং ধূসর। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই পাহাড়ের উচ্চতা ২১ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রঙ লালচে এবং মাটি নুড়ি বালি এবং কংকর মিশ্রিত।

ভারতের শীত

শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করায় সমগ্র ভারতে উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়। ডিসেম্বর হতে ফেরুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতে শীতকাল। এ সময় সমগ্র ভারতের উপর দিয়ে পুর্ব মৌসুমি বায়ু বইতে থাকে। হিমমণ্ডল থেকে নির্গত হওয়ায় এবং স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বায়ু শুষ্ক ও শীতল। হিমালয় পর্বতমালা উত্তর অঞ্চল জুড়ে প্রাচীরের ন্যায় দণ্ডায়মান থাকায় এ শুষ্ক ও শীতল বায়ু সরাসরি ভারতে প্রবেশ করতে পারে না। এজন্য ভারত শীতের কবল থেকে রক্ষা পায়। শীত ঋতুতে সমগ্র ভারতে আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক, শীতল ও আরামদায়ক থাকে।

আরো পড়ুন:  নবম -দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় - ১৩ অধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংক | সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি

ভারত শরৎ

অক্টোবর-নভেম্বর দুই মাস ভারতে শরৎ ও হেমন্তকাল।  এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুতে পরিণত হতে থাকে বলে ভারতের কোন কোন স্থানে ঘূর্ণিঝড়ের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উড়িষ্যা ও মেদিনীপুর উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিমবঙ্গের এ ঝড়কে আশ্বিনা ঝড় বলে। হেমন্তকালের শেষদিকে ভারতের সর্বত্র তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে।

মায়ানমার

মায়ানমারের জলবায়ু উপমাহাদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ক্রান্তীয় মৌসুমি ধরণের। এ অঞ্চলের জলবায়ুকে শীত, গ্রীষ্ম এবং বর্ষা- এ তিনটি আলাদা ঋতুর উপস্থিতি স্পষ্ট।

গ্রীষ্মকালঃ মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত মায়ানমারে গ্রীষ্মকাল। এ সময়ের এ দেশের অধিকাংশ স্থান অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৯ ডিগ্রী সে. এর কাছাকাছি। এ সময় সূর্য উত্তর গোলার্ধে অবস্থান বিধায় মধ্য এশিয়ায় বিরাট নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় এবং এ অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবাহ শুরু হয়। এ সময় ভামোতে ১৯ ডিগ্রী সে. মান্দালয়ে ৩২ ডিগ্রী এবং ইয়াংগুনে প্রায় ২৭ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা বিরাজ করে।

বর্ষাকালঃ মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত মায়ানমারে বর্ষাকাল। এ সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইয়াংগুনে বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং মাসের শেষদিকে এটি সারা দেশে বিস্তার লাভ করে এবং অক্টোবর মাস পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত চলতে থাকে। মায়ানমারেরর বিভিন্ন এলাকায় এ বৃষ্টিপাতের পরিমাণে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ করা যায়। আরাকান ও টেনাসেরিম উপকূলে প্রচুর পরিমাণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ২০০ সেমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, যখন দেশের সর্ব উত্তরের পাহাড়িয়া অঞ্চলেও মাত্র ৮০ সেমি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়।

শীতকালঃ এ ঋতুতে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করায় উত্তর গোলার্ধে এশিয়ার মধ্যভাগে এক বিরাট উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। সেখান হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সমুদ্রে অপেক্ষাকৃত অধিক তাপযুক্ত অঞ্চলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ফলে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তরের এ শীতল বায়ুপ্রভাবের প্রভাবে মায়ানমারের তখন বেশ শীত হওয়ার কথা থাকলেও উত্তরাংশে পার্বত্য অঞ্চলের উপস্থিতির কারণে শৈত্য তত প্রকট আকার ধারণ করে না। এ বায়ুপ্রবাহ মার্চ মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ে উত্তর মায়ানমারে উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত হয় এবং তাপামাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়।

জলবায়ু

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুজনিত কারণে এদেশের মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থা অধিক মাত্রায় প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় নানা ধরণের পরিবর্তন ঘটেছে। জলবায়ুজনিত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, নদ-নদীর ভাঙ্গন মানুষের জীবন যাত্রায় পরিবর্তন এনেছে।বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে বিভিন্ন রকম ফসল ও ফল জন্মে। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্বল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। ফলে ধান, গম,তামাক এবং নানা জাতের ডাল, তৈলবীজ, গোলআলু, পিঁইয়াজ, রসুন, ধনিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের ধরণের শাকসবজি উৎপাদন করা হয়। জলবায়ুর কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিবাহিত মাটি কৃষিক্ষেত্রের উর্বরতা বাড়ায়, এতে ফসল অনেক ভালো হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গড় তাপমাত্রা দেশের সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে আবার বর্ষাকাল দেরিতে আসছে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। হিরণ পয়েন্ট, চর ডাঙ্গা ও কক্সবাজার এর উচ্চতা প্রতিবছর গড়ে ৪ মিমি হতে ৬ মিমি পর্যন্ত বেড়েছে।

নদীমাতৃক এদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী মানুষের জীবন-জীবিকা ও উৎপাদন বাঁচিয়ে রাখে।পলি জমে বহু নদী হারিয়ে যাচ্ছে। নদীর ভাঙ্গনে প্রায় ৪ লাখ মানুষ বাস্তহারা হয়ে জীবন জীবিকার পথে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। এতে পারিবারিক ভাঙ্গন এবং শিশু, বৃদ্ধ ও নারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হয়ে অনেক প্রাণি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জেলেদের জীবিকা বদলে যাচ্ছে। জীবিকার টানে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় – ৫ এর বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পিডিএফ ডাউনলোড

১. কোন ধরনের মাটি দ্বারা সমতল নদী অববাহিকা অঞ্চল সৃষ্ট?
ক) বালি
খ) কংকর মিশ্রিত
গ) পলি
ঘ) দোআঁশ
সঠিক উত্তর: (গ)

২. লালমাই অঞ্চলের মাটি কেমন?
ক) লালচে
খ) লাল
গ) ধূসর
ঘ) নীলাভ
সঠিক উত্তর: (ক)

৩. নেপালে মূলত কয়টি ঋতু পরিলক্ষিত হয়?
ক) তিনটি
খ) দুটি
গ) চারটি
ঘ) ছয়টি
সঠিক উত্তর: (খ)

৪. বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের কতভাগ বর্ষাকালে হয়ে থাকে?
ক) পাঁচ ভাগের দুই ভাগ
খ) পাঁচ ভাগের তিন ভাগ
গ) পাঁচ ভাগের চার ভাগ
ঘ) পাঁচ ভাগের পাঁচ ভাগ
সঠিক উত্তর: (গ)

৫. মধুপুর ও ভাওয়ারের সোপানভূমির মাটি কেমন?
ক) কালো, ছাই রঙের
খ) সাদা রঙের
গ) নীলাভ রঙের
ঘ) লালচে ও ধূসর
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৬. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
ক) দুই
খ) তিন
গ) চার
ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর: (ক)

৭. সিলেটের পাহাড়িয়া অঞ্চলে কী পরিমাণ মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়?
ক) ৩৩৮ সে.মি.
খ) ৩৪০ সে.মি.
গ) ৩৪২ সে.মি.
ঘ) ৩৪৪ সে.মি.
সঠিক উত্তর: (খ)

৮. সাম্প্রতিককারের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত –
i. স্রোতজ সমভূমি
ii. চত্বরভূমি
iii. উপকূলীয় সমভূমি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (গ)

৯. লিনিয়ামোট আসাম থেকে ডাকার কোন স্থাপ পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক) নারায়ণগঞ্জ
খ) টঙ্গী
গ) পাগলা
ঘ) ডেমরা
সঠিক উত্তর: (গ)

১০. খুলনা বাংলাদেশের কোন ভূমিকম্প বলয়ে অবস্থিত?
ক) প্রথমটিতে
খ) দ্বিতীয়টিতে
গ) তৃতীয়টিতে
ঘ) চতুর্থটিতে
সঠিক উত্তর: (গ)

১১. বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ মোট ভূমির কত এলাকা নিয়ে গঠিত?
ক) ৫%
খ) ৬%
গ) ৭%
ঘ) ৮%
সঠিক উত্তর: (ঘ)

১২. ভাওয়ালের সোপানভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো –
i. মাটির রং লালচে
ii. মাটির রং অনেকটা ধূসর
iii. মাটির রং বাদামি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ক)

১৩. বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের গড় উচ্চতা কত?
ক) ৪০০ মিটার
খ) ৬১০ মিটার
গ) ৫৫০ মিটার
ঘ) ৬০০ মিটার
সঠিক উত্তর: (খ)

১৪. নেপালে নভেম্বর হতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত –
i. অত্যন্ত শুষ্ক থাকে
ii. আর্দ্র থাকে
iii. বৃষ্টিহীন থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (গ)

আরো পড়ুন:  নবম/দশম এবং একাদশ শ্রেণীর (ভূগোল, পরিবেশ) বই থেকে বাছাই করা গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর | সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি

১৫. বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ যেসব এলাকায় অবস্থিত –
i. রাঙ্গামাটি
ii. বান্দরবান
iii. খাগড়াছড়ি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

১৬. জানুয়ারি মাসে নেপালের কাঠমুন্ডুতে তাপমাত্রা কত থাকে?
ক) ৯ ডিগ্রি সে.
খ) ১০ ডিগ্রি সে.
গ) ১১ ডিগ্রি সে.
ঘ) ১২ ডিগ্রি সে.
সঠিক উত্তর: (খ)

১৭. নেপালে কয়টি ঋতু পরিলক্ষিত হয়?
ক) দুইটি
খ) তিনটি
গ) চারটি
ঘ) ছয়টি
সঠিক উত্তর: (ক)

১৮. আন্তঃবরফগলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হলে কোন ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়?
ক) চত্বরভূমি
খ) প্লাবন সমভূমি
গ) স্রোতজ সমভূমি
ঘ) ব-দ্বীপ সমভূমি
সঠিক উত্তর: (ক)

১৯. বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
ক) পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার অববাহিকায়
খ) পদ্মার অববাহিকায়
গ) ঝিলাম ও গঙ্গার অববাহিকায়
ঘ) ইরাবতির অববাহিকায়
সঠিক উত্তর: (ক)

২০. ভূমিকম্প কিরূপ দুর্যোগ?
ক) সাধারণ
খ) স্বাভাবিক
গ) প্রাকৃতিক
ঘ) কৃত্রিম
সঠিক উত্তর: (গ)

২১. বঙ্গোপসাগরে সাধারণত নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় –
i. এপ্রিল মাসে
ii. জানুয়ারি মাসে
iii. মে মাসে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

২২. জুলাই মাসে কাঠমুন্ডুর তাপমাত্রা কত?
ক) ১০ ডিগ্রি সে.
খ) ২৪.৪ ডিগ্রি সে.
গ) ২৭.৪ ডিগ্রি সে.
ঘ) ২৮.৪ ডিগ্রি সে.
সঠিক উত্তর: (খ)

২৩. ভারতের মরু অঞ্চলের উত্তাপ কত ডিগ্রি সে. পর্যন্ত দেখা যায়?
ক) ২৩
খ) ২৭
গ) ৪৩
ঘ) ৪৮
সঠিক উত্তর: (ঘ)

২৪. মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপান ভূমির অন্তর্ভুক্ত কোন জেলাগুলো?
ক) ঢাকা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি
খ) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
গ) নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী
ঘ) বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা
সঠিক উত্তর: (খ)

২৫. স্রোতজ সমভূমি বিস্তৃত –
i. খুলনা জেলায়
ii. ফরিদপুর জেলায়
iii. পটুয়াখালী জেলায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (গ)

২৬. মায়ানমারে বর্ষাকালের ব্যাপ্তি কোন কোন মাসে?
ক) মে-সেপ্টেম্বর
খ) মে-অক্টোবর
গ) জুন-সেপ্টেম্বর
ঘ) জুন-অক্টোবর
সঠিক উত্তর: (খ)

২৭. মায়ানমারের গড় তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে কত ডিগ্রি সে. এ পৌঁছায়?
ক) ১৯
খ) ২৭
Οগ) ২৯
ঘ) ৩২
সঠিক উত্তর: (গ)

২৮. কোন পাহাড়টি উচ্চতায় সবচেয়ে নিচু?
ক) লালমাই
খ) চিকনাগুল
গ) খাসিয়া
ঘ) জয়ন্তিয়া
সঠিক উত্তর: (ক)

২৯. আকস্মিক পদ্ধতিতে ভূপরিবর্তনকারী শক্তির মধ্যে প্রধান –
i. ভূমিধস
ii. আগ্নেয়গিরি
iii. ভূমিকম্প
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (খ)

৩০. কত সালে বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় সংবলিত মানচিত্র তৈরি করা হযেছে?
ক) ১৯৮০
খ) ১৯৮৫
গ) ১৯৮৯
ঘ) ১৯৯৫
সঠিক উত্তর: (গ)

৩১. কোনগুলো দক্ষিণ এশিয়ার নদী?
ক) মারে ডার্লিং, ইয়াংসিকিয়াং
খ) টেমস, হোয়াংহো
গ) পদ্মা, ইরাবতি
ঘ) পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩২. বাংলাদেশে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক সময় কী সৃষ্টি হয়?
ক) অতিবৃষ্টি ও ঝড়
খ) অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যা
গ) অনাবৃষ্টি ও দুর্যোগ
ঘ) বন্যা ও সুনামি
সঠিক উত্তর: (খ)

৩৩. মায়ানমারে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু শীতকালে কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
ক) দক্ষিণ-পূর্ব
খ) দক্ষিণ-পশ্চিম
গ) উত্তর-পূর্ব
ঘ) উত্তর-পশ্চিম
সঠিক উত্তর: (খ)

৩৪. গ্রীষ্মকালে মায়ানমারে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় কেন?
ক) এ সময় সূর্য উত্তর গোলার্ধে অবস্থান করে
খ) এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে
গ) এ সময় মায়ানমারে সূর্যের উত্তাপ কমে যায়
ঘ) এ সময় মায়ানমারের প্রাকৃতিক পরিবর্তন হয়
সঠিক উত্তর: (ক)

৩৫. ভারতের ওপর দিয়ে শীতকালে কোন মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়?
ক) পূর্ব মৌসুমি
খ) পশ্চিম মৌসুমি
গ) উত্তর মৌসুমি
ঘ) দক্ষিণ মৌসুমি
সঠিক উত্তর: (খ)

৩৬. বাংলাদেশের কোন জেলা ভূমিকম্পের ডেঞ্জার ফন্ট লাইনে অবস্থান করছে?
ক) ঢাকা
খ) চট্টগ্রাম
গ) রংপুর
ঘ) সিলেট
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৭. বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাত এবং বর্ষাকাল দেরিতে আসার কারণ কী?
ক) আবহাওয়ার পরিবর্তন
খ) পরিবেশের পরিবর্তন
গ) বনভূমি ধ্বংস
ঘ) জলবায়ু পরিবর্তন
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৮. জুন মাসের শেষে অতিরিক্ত তাপ ভারতের কোন এলাকায় প্রবল শক্তিসম্পন্ন নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি করে?
ক) পশ্চিমবঙ্গে
খ) উড়িষ্যায়
গ) মেদিনীপুরে
ঘ) পাঞ্জাবে
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৯. ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
ক) ১.৩৭
খ) ১.৩৮
গ) ১.৪২
ঘ) ১.৪৮
সঠিক উত্তর: (ক)

৪০. বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
ক) লালমাই
খ) মোদকমুয়াল
গ) তাজিনডং
ঘ) কিওক্রাডং
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪১. বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ভূমিকম্পের কয়টি কারণ চিহ্নিত করেছেন?
ক) একটি
খ) দুইটি
গ) তিনটি
ঘ) চারটি
সঠিক উত্তর: (খ)

৪২. গ্রীষ্মকালে মায়ানমারের কোথায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়?
ক) ইয়াঙ্গুনে
খ) মান্দালয়ে
গ) ভামোতে
ঘ) টেনাসেরিমে
সঠিক উত্তর: (খ)

৪৩. বাংলাদেশে কোন ভূমিকম্প বলয়কে লঘু বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
ক) প্রথম
খ) দ্বিতীয়
গ) তৃতীয়
ঘ) চতুর্থ
সঠিক উত্তর: (গ)

৪৪. বর্ষাকালের সময় কোন কোন মাসে খুব বেশি গরম পড়ে?
ক) মে ও জুলাই
খ) এপ্রিল ও আগস্ট
গ) জুন ও সেপ্টেম্বর
ঘ) মে ও অক্টোবর
সঠিক উত্তর: (গ)

৪৫. বাংলাদেশে শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত হয়?
ক) ২৮ ডিগ্রি সে.
খ) ২৯ ডিগ্রি সে.
গ) ৩০ ডিগ্রি সে.
ঘ) ৩১ ডিগ্রি সে.
সঠিক উত্তর: (খ)

৪৬. ভারতের জলবায়ুকে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে?
ক) দুইটি
খ) তিনটি
গ) চারটি
ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর: (গ)

৪৭. আসাদ কলকাতা যেতে চাইল। বাংলাদেশের কোন সীমান্ত এলাকা এর জন্য সুবিধাজনক?
ক) পশ্চিম দিক দিয়ে
খ) দক্ষিণ দিক দিয়ে
গ) পূর্ব দিক দিয়ে
ঘ) উত্তর দিক দিযে
সঠিক উত্তর: (ক)

৪৮. বাংলাদেশের কত ভাগ ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি?
ক) ৭০%
খ) ৭৫%
গ) ৮০%
ঘ) ৮৫%
সঠিক উত্তর: (গ)

৪৯. জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে –
i. মানুষের পেশাগত পরিবর্তন ঘটছে
ii. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে
iii. বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বিপন্ন হচ্ছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৫০. বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের কোন দিকে অবস্থিত?
ক) দক্ষিণ
খ) পূর্ব
গ) দক্ষিণ-পশ্চিম
ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব
সঠিক উত্তর: (ক)

PDF File Download From Here

📝 সাইজঃ-305 KB 

📝 পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ 7

Download From Google Drive

Download

Direct Download 

Download