নবম -দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় – ২: স্বাধীন বাংলাদেশ | সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি

নবম -দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় – ২: স্বাধীন বাংলাদেশ

এই নোট টির ডাউনলোড লিংক পোস্টের নিচে পাবেন

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তানি সামরিক শাসকচক্র আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা চক্রান্ত শুরু করে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। ভুট্টো ঢাকায় অধিবেশনে যোগদান করতে অস্বীকার করেন, অন্যান্য সদস্যদেরও তিনি হুমকি দেন। এসবই ছিল ভুট্টো- ইয়াহিয়ার ষড়যন্ত্রের ফল। ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ ভুট্টোর ঘোষণাকে অজুহাত দেখিয়ে ৩ মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করে অধিবেশন স্থগিত করায় পূর্ববাংলার জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা দেশে হরতাল পালিত হয়। ফলে সকল সরকারি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। হরতাল চলাকালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে বহুলোক হতাহত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ তারিখে বিশাল এক জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন। এ ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা করেন এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে আহবান জানান। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তানি সামরিক শাসকচক্র আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা চক্রান্ত শুরু করে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। ভুট্টো ঢাকায় অধিবেশনে যোগদান করতে অস্বীকার করেন, অন্যান্য সদস্যদেরও তিনি হুমকি দেন। এসবই ছিল ভুট্টো- ইয়াহিয়ার ষড়যন্ত্রের ফল। ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ ভুট্টোর ঘোষণাকে অজুহাত দেখিয়ে ৩ মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করে অধিবেশন স্থগিত করায় পূর্ববাংলার জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা দেশে হরতাল পালিত হয়। ফলে সকল সরকারি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। হরতাল চলাকালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে বহুলোক হতাহত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ তারিখে বিশাল এক জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন। এ ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা করেন এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে আহবান জানান। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর শাসন আমল ও পরবর্তী ঘটনাবলি

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ২২ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে ঢাকায় আসে এবং শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং সরকার প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে সামগ্রিক পুনর্গঠন, ভারতে অবস্থান এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন, সংবিধান প্রণয়ন, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান, ভারতের মিত্রবাহিনীর সদস্যদের ফেরত পাঠানো, বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ইত্যাদি তাঁর শাসন আমলের উল্লেখযোগ্য অর্জন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির চক্রান্তে কতিপয় বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার অভ্যুত্থানে বিদেশে অবস্থান্রত দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যতীত পরিবারের সকল সদস্যসহ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ২২ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে ঢাকায় আসে এবং শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং সরকার প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে সামগ্রিক পুনর্গঠন, ভারতে অবস্থান এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন, সংবিধান প্রণয়ন, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান, ভারতের মিত্রবাহিনীর সদস্যদের ফেরত পাঠানো, বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ইত্যাদি তাঁর শাসন আমলের উল্লেখযোগ্য অর্জন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির চক্রান্তে কতিপয় বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার অভ্যুত্থানে বিদেশে অবস্থান্রত দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যতীত পরিবারের সকল সদস্যসহ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

সেনা শাসন আমল (১৯৭৫-১৯৯০)

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সেনা শাসন বহাল ছিল। দেশের সংবিধানকে উপেক্ষা করে খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি সায়েম, জেনারেল জিয়াউর রহমান, বিচারপতি আহসান উদ্দিন এবং জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। দেশে সেনা শাসন বহাল রেখে সুবিধামতো সময়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান (১৯৭৫-১৯৮১) এবং জেনারেল এরশাদ (১৯৮২-১৯৯০) নির্বাচন সম্পন্ন করে বেসামরিক শাসন চালু করেন। তাদের অগণতান্ত্রিক শাসন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধী কার্যকলাপ দেশের জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ফলে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রামের পর অবশেষে ১৯৯১ সালে পুনরায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সেনা শাসন বহাল ছিল। দেশের সংবিধানকে উপেক্ষা করে খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি সায়েম, জেনারেল জিয়াউর রহমান, বিচারপতি আহসান উদ্দিন এবং জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। দেশে সেনা শাসন বহাল রেখে সুবিধামতো সময়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান (১৯৭৫-১৯৮১) এবং জেনারেল এরশাদ (১৯৮২-১৯৯০) নির্বাচন সম্পন্ন করে বেসামরিক শাসন চালু করেন। তাদের অগণতান্ত্রিক শাসন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধী কার্যকলাপ দেশের জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ফলে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রামের পর অবশেষে ১৯৯১ সালে পুনরায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।

গনতন্ত্রের পুনঃযাত্রা

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক, বেসামরিক আদলে সেনা শাসন অব্যাহত ছিল।

১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরু হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকল দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক ধারা চালু হয়। জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্ত হয়ে জনগণ দেশে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ধারা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়। এ অগ্রযাত্রায় সকল শ্রেণির মানুষ এক বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখে। একটি প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ জেল-জুলুম-নির্যাতন এমনকি মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে অকাতরে প্রাণ দেয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তৃক শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি দেশে পুনঃপ্রবর্তন ও সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক, বেসামরিক আদলে সেনা শাসন অব্যাহত ছিল।

১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরু হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকল দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক ধারা চালু হয়। জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্ত হয়ে জনগণ দেশে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ধারা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়। এ অগ্রযাত্রায় সকল শ্রেণির মানুষ এক বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখে। একটি প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ জেল-জুলুম-নির্যাতন এমনকি মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে অকাতরে প্রাণ দেয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তৃক শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হয়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি দেশে পুনঃপ্রবর্তন ও সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত হয়।

গণমাধ্যম

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীন বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে একটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণিত করে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্ববধানে প্রকাশিত পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভুমিকা পালন করে।

মুক্তিযুদ্ধে নারী

মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। অপরদিকে সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা।

পাকসেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হয় প্রায় তিনলক্ষ নারী। তারাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারিভাবে তাদের ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

মুজিবনগর সরকার

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘মুজিবনগর সরকার’ গঠন করা হয়। ঐ দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ। মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-শাসন, বঞ্চনার ইতিহাস, নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা ও বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভ’মি তুলে ধরেন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ ভাষণ এক স্মরণীয় দলিল। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ঐতিহাসিক ভাষণের নজির আছে ৭ মার্চের ভাষণ তার অন্যতম। পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী মানুষের নিকট এ ভাষণ অমর হয়ে থাকবে।

আরো পড়ুন:  নবম -দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় - ১৩ অধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংক | সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি

মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ ও পেশাজীরীদের ভূমিকা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরন্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ চালালে বাঙালি ছাত্র, জনতা, পুলিশ, ইপিআর, সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁডায়। বিনা প্রতিরোধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙ্গালিরা ছাড় দেয়নি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে শহিদ হন, আবার অনেকে গুলি খেয়ে পঙ্গু হন। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের এ ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না। জাতি চিরকাল মুক্তিযোদ্ধাদের সূর্য সন্তান হিসাবে মনে করবে। তারা ছিল দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসী এবং আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক, ইপিআর, পূলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের বাঙালি অংশগ্রহণ করে। তাই এ যুদ্ধকে ‘গণযুদ্ধ’ বা জনযুদ্ধ বলা যায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। তাই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, পেশাজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে শত্র“মুক্ত করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।

শিল্প-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীর ভুমিকা

মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। তথাপি যুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীর অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। পত্রপত্রিকার লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা পাঠ, নাটক কবিতা, এম. আর আক্তার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠান এবং ‘জল্লাদের দরবার’ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। এসব রণক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে সহায়তা করছে, সাহস জুগিয়েছে, জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করেছে।

স্বাধীনতার ঘোষণা

গ্রেফতার হওয়ার পুর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে, যাতে বিশ্ববাসী ঘোষনাটি বুঝতে পারেন। স্বাধীনতা ঘোষণার বাংলা অনুবাদ- “ ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহবান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও। সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কর। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চুড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।” (বাংলাদেশ গেজেট, সংবিধানের পঞ্চদেশ সংশোধনী, ৩ জুলাই ২০১১)। স্বাধীনতার  এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান চট্টগ্রামের মাধ্যমে বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একই বেতার কেন্দ্র হতে সামরিক অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার সমর্থনে বক্তব্য প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর প্রতি বাঙালি সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়।

প্রবাসী বাঙালি

প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পার্লামেন্ট সদস্যদের নিকট ছুটে গিয়েছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছে, পাকিস্তানকে অস্ত্র গোলাবারুদ সরবরাহ না করতে সরকারের নিকট আবেদন করেছেন। এ ক্ষেত্রে বৃটেনের প্রবাসী বাঙ্গালিদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তারা নিরলস কাজ করেছেন।

স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা

৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত কর্মসূচি এবং আহ্বানের প্রতি সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। পূর্ব বাংলার সকল অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা করতে। এসময় ভুট্টোও ঢাকায় আসেন। অপরদিকে, গোপন আলোচনার নামে কালক্ষেপণ, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য. গোলাবারুদ এনে পূর্ব বাংলায় সামরিক প্রস্তুুতি গ্রহণ কনে। ১৭ মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকান্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরী কেরে। ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম গণহত্যা, ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ শুরু হয়। ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ২৫ মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। ইয়হিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জাতির উপর ঝাঁতিয়ে পড়ে। হত্যা করে বহু মানুষকে। পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা বিডিআর ক্যাম্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় এবং নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করে, যা ইতিহাসের ২৫ মার্চের কালো রাত্রি নামে পরিচিত। ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতেই অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং তা ওয়ারল্যাসে পাঠানো হয়।  ঐদিন রাত ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে গোপনে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম

সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের উপ-রাস্ট্রপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে বেগমান ও সফল করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ও পরিচালক ছিলেন

রাজনৈতিক দল

বাংদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান রাজনৈতিক দলটি হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক নেতৃত্বই মুক্তিযুদ্ধের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে। আওয়ামী লীগ প্রথমে পূর্ব বাংলার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে সংগঠিত করে, এরপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর জনগণকে স্বাধীনতা আনয়নে উদ্বুদ্ধ করে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশ সরকার গঠন করে বঙ্গবন্ধুর সাধীনতার ঘোষণাকে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। ২৫ মার্চের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংগঠিত হয়ে সরকার গঠন, মুক্তিবাহিনী গঠন, বিদেশে জনমত সৃষ্টিও সমর্থন আদায়, যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ এবং জনগণের মনোবল অটুট রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার ক্ষেত্রে শক্তি, মেধা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে সক্ষম হন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদান, ভারতে ১ কোটি শরণার্থীর ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্বাধীন বাংলাবেতার কেন্দ্র পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ ছাড়াও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ন্যাপ (ভাসানী), ন্যাপ (মোজাফ্ফর), কমিউনিষ্ট পার্টি, জাতীয় কংগ্রেস ইত্যাদি। এসব দলের নেতা ও কর্মীরা অনেকেই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

জর্জ হ্যারিসন

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিঙ্গুলোতে বৃটেনের প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বাঙালিদের উপর পাক বাহিনীর নির্মম হত্যা এবং বাঙ্গালিদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, পাক বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্বন্ধে জাগ্রত করে তোলে। লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও দানসহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে ৪০০০০ লোকের সমাগমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী গান পরিবেশন করেন। বৃটেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচারমাধ্যমগুলো পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে। ইরাক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল।

সোভিয়েত ইউনিয়ন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে সোভিয়েত ইউনিয়ন। পাকবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ,নারী-নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহবান জানান। তিনি ইয়াহিয়াকে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন। সোভিয়েত পত্র পত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাক বাহিনীর নির্যাতন প্রচার করে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে।জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধবন্ধের প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ভেটো’ দিয়ে বাতিল করে দেয়।বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেমন- সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া,পোল্যাণ্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, পূর্ব-জার্মানি প্রভৃতি সমর্থন জানায়।

ভারত

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন জানায় প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির বীভৎস হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী ন’মাস ধরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যে নারকীয় গণহত্যা, লুন্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, ভারত তা বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরে। লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, অস্ত্র সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। ভারত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মুক্তি বাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী ‘যৌথ কমান্ড’ গড়ে তোলে। যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলে ৯৩ হাজার পাক সেনা নিঃশর্তে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ভারতের বহু সৈন্য এতে প্রাণ হারায়।

মুজিবনগরের কার্যক্রম

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলার আম্রকানঙ্কে নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘মুজিবনগর সরকার’ গঠন করা হয়। ঐ দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ’। মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।

মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের কাঠামো নিম্নরূপঃ

১।রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

২।উপ-রাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম

৩।প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দিন আহমদ

৪।অর্থমন্ত্রী- এম মনসুর আলী

৫।স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী- এ এইচ এম কামরুজ্জামান

৬।পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী- খন্দকার মোশতাক আহমেদ

স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী,ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড মনিসিং, জাতীয় কংগ্রেসের শ্রী মনোরঞ্জন ধর, তাজউদ্দিন আহমেদ ও খন্দকার মোশতাক আহমেদ এই ৬ জন ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য

১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।

বাঙালি কর্মকর্তাদের নিয়ে সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে। এতে মোট ১২ টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। এগুলো হচ্ছে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ-শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, সাধারণ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, যুব ও অভ্যর্থনা শিবিরের নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ইত্যাদি। মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা,দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক,স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দান করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব এবং জনমতের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। ১০ এপ্রিল সরকার ৪ টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে। ১১ এপ্রিল তা পুনঃনির্ধারিত করে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়। এ সব বাহিনীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, পুলিশ, ইপি আর, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন। প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল। এ সব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাগণ মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, অনেকেই দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন।

আরো পড়ুন:  Pronoun References এর সহজ Rule/ নিয়ম পিডিএফ ডাউনলোড|Classification of Pronoun|Pronoun এর বিস্তারিত আলোচনা

ছাত্র সমাজ

পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে বাঙালি জাতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে এদেশের ছাত্র সমাজ। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ ও ৬৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয়দফার আন্দোলন, ১৯৬৮ সালে ১১ দফার আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিরাট অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। মুক্তিযুদ্ধে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল।মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলতঃ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের মহান আত্মত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হত।

১৯৭৩

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ সর্বপ্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠিত হয়।

পাচশালা

বঙ্গবন্ধু সরকার দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য একটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে। কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক বঙ্গবন্ধুর সরকার যুদ্ধ বিধ্বস্ত নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বকেয়া সুদসহ কৃষি জমির খাজনা মওকুফ করে দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র

পাকিস্তানের কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পদার্পণ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে, কারও প্রতি বৈরী আচরণ সমর্থন করবে না। তিনি ঘোষণা করেন, সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়।- এ নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে। তিনি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান এবং পুনর্গঠন সহোযোগিতা প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধ করেন। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৪০ টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করার জন্য নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করে। অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশগূলোও এগিয়ে আসে।

আন্তর্জাতিক

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সদস্য হয়। ১৯৭৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। বঙ্গবন্ধু সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় প্রথম ভাষণ প্রদান করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ সংস্থার সদস্য পদ লাভ করে। বিশ্বশান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।বাংলাদেশ তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক সম্মানের মর্যাদা লাভ করে।

সংবিধান

১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘খসড়া সংবিধান প্রণয়ন’ কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটি ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল আকারে গণপরিষদে পেশ করে। ৪ নভেম্বর উক্ত সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়। ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা বলবৎ করা হয়। এ সংবিধানের মূলনীতি হচ্ছে- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। সংবিধানে সার্বজনীন ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার, ন্যায় বিচারসহ জনগণের সকল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার স্বীকৃত হয়।

জেল হত্যা

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর গভীর রাতে ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের পর খুনিচক্র সেনাসদস্যগণ দেশত্যাগের পূর্বে খন্দকার মোশতাকের অনুমতি নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে সেখানে বন্দি থাকা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী আইচ ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান কে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সংঘটিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এর এক কলঙ্কময় অধ্যায়। এ ঘটনা মোশতাকের পতন ত্বরান্বিত করে। খুনিরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। এ হত্যাকাণ্ড ছিল ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সম্মিলিত ষড়যন্ত্র ও নীলনক্সার বাস্তবায়ন। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর একই গোষ্টী হত্যাকান্ড পরিচালনা করে।

জিয়া

১৯৭১ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীর মেজর ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তিনি ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর নামে পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক সংবিধান লঙ্ঘন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করে। ২৪ আগস্ট তিনি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে নিযুক্ত করেন। ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থানে খন্দকার মোশতাকের পতন ঘটে এবং জেনারেল জিয়া গৃহবন্দি হন। ৭ নভেম্বর পাল্টা সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ এস এম সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন। কিন্ত ১৯৭৬ সালের ৩ নভেম্বর জিয়া নিজেকে প্রধান সামরিক আইন শাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত করেন। জেনারেল জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭২ এর সংবিধানে প্রণীত যেসব মৌলিক নীতি ও চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হয়ে আসছিল তার বেশির ভাগই বাতিল করে দেওয়া হয়। ৭ নভেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন্ সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহেরকে ১৯৭৬ সালে সামরিক আদালতের প্রহসনের বিচার শেষে তারই আদেশে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৫ আগস্ট সহ বর্বরোচিত হত্যাকণ্ডের বিচার করা যাবে না মর্মে কুখ্যাত ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশের মূল হোতাও তিনি ছিলেন।

সংবিধান

১৯৭২ সালের সংবিধান ছিল লিখিত। পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ছিল দুষ্পরিবর্তনীয়। সংবিধানে বাংলাদেশকে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সংসদ সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। এ সংবিধানে বাংলাদেশকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র’ হিসেবে বলা হয়। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস- সংবিধানের এ ঘোষণা দ্বারা জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ সংবিধানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়। সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ১৮ বছর বয়স্ক যে কোন নাগরিক ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ এ নীতির ভিত্তিতে সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষ বিশিষ্ট হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সময়ে এ পর্যন্ত ১৫ বার সংশোধন করেছে। তন্মধ্যে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পঞ্চম সংশোধনী, জেনারেল এরশাদের সপ্তম সংশোধনী এবং ত্রয়োদশ সংশোধনী সুপ্রীম কোর্ট কতৃক বাতিল হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা

পাকিস্তান আমলে বাঙ্গালাদেশ ভূখণ্ডে প্রায় ৩৮ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। এগুলোতে কর্মরত শিক্ষকগণ সরকারের কাছ থেকে যৎসামান্য বেতন-ভাতা পেতেন। বঙ্গবন্ধু সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২ সালে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. কুদরত এ খুদাকে প্রধান করে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। এই কমিটি ১৯৭৪ সালে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতির রূপরেখা প্রণয়ন করে।

দ্বিতীয় বিপ্লব

মুক্তিযুদ্ধের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ যখন ব্যস্ত তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মুল্যবৃদ্ধি, খাদ্য সংকট, ১৯৭৩-৭৪ সালে বন্যায় দেশে খাদ্যোৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়। ফলে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। দেশের অভ্যন্তরে মওজুদদার, দুর্নীতিবাজ এবং ষড়যন্ত্রকারী গোষ্টী তৎপর হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর সরকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দল নিয়ে কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করে। এটিকে তিনি ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেন।

জাতিসংঘ

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান যখন বাঙালি নিধনে তৎপর  তখন জাতিসংঘ বলতে গেলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, মৌলিক মানব অধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে ‘ভেটো’ ক্ষমতা সম্পন্ন পাঁচটি বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রের বাইরে জাতিসংঘের নিজস্ব উদ্যোগে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা ছিল সীমিত।

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় অধ্যায় – ২ এর বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পিডিএফ ডাউনলোড

১. কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খানকে গণহত্যা বন্ধ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহবান জানিয়েছিলেন?
ক) সোভিয়েত ইউনিয়ন
খ) চীন
গ) আমেরিকা
ঘ) কিউবা
সঠিক উত্তর: (ক)

২. সার্ক গঠন ও সার্ক-এর যাত্রা শুরুর সাথে বাংলাদেশের কোন সরকার জড়িত ছিল?
ক) জিয়া সরকার
খ) আওয়ামী সরকার
গ) অস্থায়ী সরকার
ঘ) সমাজতান্ত্রিক সরকার
সঠিক উত্তর: (ক)

৩. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কী নামে পরিচিত?
ক) কালরাত
খ) অপারেশন নাইট
গ) শেষরাত
ঘ) হত্যা রজনী
সঠিক উত্তর: (ক)

৪. মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র ‘স্বাধীন বাংলা’ বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বেতার কেন্দ্রটির নাম কী?
ক) ঢাকা সম্প্রচার কেন্দ্র
খ) রংপুর সম্প্রচার কেন্দ্র
গ) আকাশবানী সম্প্রচার কেন্দ্র
ঘ) কালুরঘাট সম্প্রচর কেন্দ্র
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৫. খন্দকার মোশতাক আহমদ মুজিবনগর সরকারের কোন দায়িত্ব পালন করেন?
ক) অর্থমন্ত্রী
খ) পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী
গ) রাষ্ট্রপতি
ঘ) উপ-রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর: (খ)

৬. কোন সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সুসম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানে ভূমিকা রেখেছিল?
ক) মোশতাক সরকার
খ) আওয়ামী লীগ সরকার
গ) ছাত্তার সরকার
ঘ) জিয়া সরকার
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৭. মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া শরনার্থীদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের দায়িত্বে কোন নেতা নিয়োজিত ছিলেন?
ক) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
গ) কমরেড মনি সিং
ঘ) মওলানা ভাসানী
সঠিক উত্তর: (ক)

৮. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
ক) কে এম শফিউল্লাহ
খ) এ কে খন্দকার
গ) এম এ জি ওসমানী
ঘ) মেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর: (গ)

আরো পড়ুন:  নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান অধ্যায় - ৯: দৃঢ়তা প্রদান ও চলন এর সকল গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমাধান ও Suggestion PDF ডাউনলোড

৯. পাকিস্তানের কোন নেতা ইয়াহিয়া খান আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানে অস্বীকৃতি জানায়?
ক) জুলফিকার আলী ভুট্টো
খ) জিয়াউল হক
গ) আইআই চূন্দ্রীগড়
ঘ) মওলানা ভাসানী
সঠিক উত্তর: (ক)

১০. গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ এগুলো বাংলাদেশের কী?
ক) প্রশাসনিক দলিল
খ) মূলনীতি
গ) মানদন্ড
ঘ) দর্পণ
সঠিক উত্তর: (খ)

১১. স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ দেন –
i. একটি উপদেষ্টা পরিষদ
ii. একটি মনোনয়ন বোর্ড
iii. একটি বিশেষ কমিটি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i
খ) ii
গ) iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ক)

১২. কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবিধানে পুনরায় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত হয়?
ক) ৫ম
খ) ৬ষ্ঠ
গ) ৭ম
ঘ) ৮ম
সঠিক উত্তর: (ক)

১৩. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারির প্রায় কত মাস পরে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছিলেন?
ক) প্রায় ৫ মাস
খ) প্রায় ৮ মাস
গ) প্রায় ৯ মাস
ঘ) প্রায় ১০ মাস
সঠিক উত্তর: (গ)

১৪. জাতি মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করবে, কেননা –
i. তাঁরা আমাদের সূর্যসন্তান
ii. মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে তাঁরা যুদ্ধ করেছেন
iii. দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

১৫. জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়নের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রের পরিবর্তনগুলো হলো –
i. ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীর হার কমেছে
ii. শ্রেণিতে মেয়ে শিক্ষার্থীর হার বেড়েছে
iii. বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (খ)

১৬. পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি প্রদান করা হয় কত সালে?
ক) ১৯৫৪
খ) ১৯৫৫
গ) ১৯৫৬
ঘ) ১৯৬৮
সঠিক উত্তর: (গ)

১৭. দেশের বাইরে কোন শহরে মুজিবনগর সরকারের মিশন স্থাপিত হয়েছিল?
ক) আমস্টার্ডাম
খ) জেনেভা
গ) স্টকহোম
ঘ) মস্কো
সঠিক উত্তর: (গ)

১৮. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে চরমপত্র পাঠ করতেন কে?
ক) বেলাল আহমেদ
খ) এম. আর. আখতার মুকুল
গ) আবদুল জব্বার
ঘ) আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর: (খ)

১৯. ২৫ মার্চ ১৯৭১-এ পরিচালিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর পরিকল্পনার সাথে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা হলো –
i. টিক্কা খান
ii. রাও ফরমান আলী
iii. জুলফিকার আলী ভুট্টো
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ক)

২০. ১৯৭১ সালে গঠিত সংগ্রাম পরিষদে কোন শ্রেণির নারীর অংশগ্রহণ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল?
ক) কিশোরীদের
খ) যুবতীদের
গ) বিধবাদের
ঘ) ছাত্রীদের
সঠিক উত্তর: (ঘ)

২১. মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল কাদের নিযে?
ক) সৈনিকদের
খ) শিল্পীদের
গ) ছাত্র-ছাত্রীদের
ঘ) শিক্ষকদের
সঠিক উত্তর: (গ)

২২. বাংলাদেশে সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বৈধতা লাভ করেছিল?
ক) ৪র্থ সংশোধনী
খ) ৫ম সংশোধনী
গ) ৬ষ্ঠ সংশোধনী
ঘ) ৭ম সংশোধনী
সঠিক উত্তর: (খ)

২৩. বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের মধ্যে কত বছর কারাগারে কাটান?
ক) ১২
খ) ১৩
গ) ১৪
ঘ) ১৫
সঠিক উত্তর: (ক)

২৪. বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২ সালের সংবিধানে নাগরিকদের যে সকল অধিকার প্রদান করে সেগুলো হলো –
i. মৌলিক অধিকার
ii. অর্থনৈতিক সাম্যের অধিকার
iii. ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (গ)

২৫. ১৯৭১ সালের কত তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়?
ক) ২৩ মার্চ প্রথম প্রহরে
খ) ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে
গ) ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে
ঘ) ২৭ মার্চ প্রথম প্রহরে
সঠিক উত্তর: (গ)

২৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে কে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন?
ক) এম এ হান্নান শাহ
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
গ) মেজর জিয়াউর রহমান
ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর: (ক)

২৭. বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে গঠিত গণপরিষদের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
ক) যুদ্ধপরাধীর বিচার করা
খ) সংবিধান প্রণয়ন করা
গ) নির্বাচন পরিচালনা করা
ঘ) দেশের শাসন কাজ পরিচালনা
সঠিক উত্তর: (খ)

২৮. জিয়াউর রহমানের শাসনামলে –
i. পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়
ii. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়
iii. সামরিক বাহিনীর মধ্যে বেশ কিছু অভ্যুত্থান হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (গ)

২৯. বাংলাদেশের সংবিধান সংরক্ষণ করা হয়েছে –
i. মালিকানা নীতি
ii. সর্বজনীন ভোটাধিকার
iii. মৌলিক অধিকার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩০. ৭ মার্চের ভাষণ থেকে বাঙালিরা পায় –
i. সান্ত্বনা ও সহনশীল হওয়ার উপদেশ
ii. ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা
iii. মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (খ)

৩১. রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর কে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন?
ক) বিচারপতি আবদুস সাত্তার
খ) বিচারপতি এ এস এম সায়েম
গ) জেনারেল এরশাদ
ঘ) মেজর মঞ্জুর
সঠিক উত্তর: (ক)

৩২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্ত ছিলেন –
i. ১৯৬৬-এর ছয় দফার সাথে
ii. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সাথে
iii. ১৯৭০-এর নির্বাচনের সাথে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৩. বঙ্গবন্ধুর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ক্ষেত্রে সাফল্য হলো –
i. মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সাহায্য দান
ii. ১৪০টি দেশের স্বীকৃতি আদায়
iii. পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (খ)

৩৪. ইয়াহিয়া খান ঢাকা আসেন কেন?
ক) বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনা করতে
খ) ক্ষমতা হস্তান্তর করতে
গ) বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেতে
ঘ) অধিবেশনে যোগদান করতে
সঠিক উত্তর: (ক)

৩৫. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেছিলেন কারা?
ক) ঢাকা বেতারের কর্মীরা
খ) রাজশাহী বেতারের কর্মীরা
গ) চট্টগ্রাম বেতারের কর্মীরা
ঘ) খুলনা বেতারের কর্মীরা
সঠিক উত্তর: (গ)

৩৬. মোজাম্বিকের সামরিক বাহিনীর অধস্তন অফিসাররা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাপ্রধানকে গৃহবন্দি করে। পরবর্তীতে অপর অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান মুক্ত হন। মোজাম্বিকের সেনাপ্রধানের সাথে কার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়?
ক) জেনারেল এরশাদের
খ) জেনারেল জিয়াউর রহমানের
গ) জেনারেল শফিউল্লাহর
ঘ) জেনারেল মঈন উ আহমেদের
সঠিক উত্তর: (খ)

৩৭. কোন শহরে ইয়াহিয়া খান আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল?
ক) ইসলামাবাদে
খ) করাচিতে
গ) ঢাকায়
ঘ) লাহোরে
সঠিক উত্তর: (গ)

৩৮. মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী লিপ্ত ছিল –
i. লুটতরাজ
ii. অগ্নিসংযোগ
iii. মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৩৯. বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য কী?
ক) শিল্পায়ন
খ) ব্যবসা-বাণিজ্য করা
গ) দারিদ্র্য বিমোচন
ঘ) আমদানি বৃদ্ধিকরণ
সঠিক উত্তর: (গ)

৪০. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে কোন বিদেশি সংগীত শিল্পী ভূমিকা রেখেছিলেন?
ক) জেমস ব্রাউন
খ) জর্জ হ্যারিসন
গ) আলবার্ট কিং
ঘ) মাইকেল জ্যাকসন
সঠিক উত্তর: (খ)

৪১. কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল?
ক) ১ম
খ) ২য়
গ) ৩য়
ঘ) ৪র্থ
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪২. মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি সেক্টরেই ছিল –
i. সেনা
ii. গেরিলা
iii. সাধারণ যোদ্ধা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪৩. লিবিয়ার বর্তমান সরকার একটি নির্দেশ জারি করেছে যে, লিবিয়াতে যে গণহত্যা হয়েছে সেগুলোর বিচার করা যাবে না। এ নির্দেশ বাংলাদেশের কোন অধ্যাদেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক) মোবাইল কোর্ট অধ্যাদেশ
খ) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
গ) সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ
ঘ) বার কাউন্সিল অধ্যাদেশ
সঠিক উত্তর: (খ)

৪৪. ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনী ছিল –
i. ২ সেক্টরের অধীনে
ii. কে ফোর্সের অধীনে
iii. স্থানীয় স্বতন্ত্র বাহিনী
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i
খ) ii
গ) iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (গ)

৪৫. মুক্তিযুদ্ধে নারীরা অসমান্য অবদান রাখে –
i. অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে
ii. যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রূষা করে
iii. মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও সেবা-শুশ্রূষা করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ)

৪৬. বিএনপি ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটি আসন লাভ করে?
ক) ১৮০টি
খ) ১৯৭টি
গ) ২০৭টি
ঘ) ২২০টি
সঠিক উত্তর: (গ)

৪৭. ছয় দফা দাবি কে উত্থাপন করেন?
ক) মওলানা ভাসানী
খ) শামসুল হক
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ঘ) এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর: (গ)

৪৮. বঙ্গবন্ধু দেশের উন্নয়নে কী শুরু করেছিলেন?
ক) দ্বিতীয় বিপ্লব
খ) ভিশন-২০০০
গ) ভিশন বাংলাদেশ
ঘ) বাংলাদেশ-৭১
সঠিক উত্তর: (ক)

৪৯. যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো?
ক) ধনতান্ত্রিক
খ) সমাজতান্ত্রিক
গ) রাজতান্ত্রিক
ঘ) গণতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর: (খ)

৫০. মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজিববাহিনী গঠিত হয়েছিল –
i. সাধারণ জনগণ নিয়ে
ii. ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে
iii. পেশাজীবীদের নিয়ে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i
খ) ii
গ) iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (খ)

PDF File Download From Here

📝 সাইজঃ-291 KB 

📝 পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ 7

Download From Google Drive

Download

Direct Download 

Download